একাত্তরের রক্তাক্ত চরবাড়ীয়ার স্মৃতি ফলক

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলার একটি জনপদ। চরবাড়িয়া ঐশ্বর্য ও বীর্যবান দেশপ্রেমিক সাধারণ বাসিন্দারা ২৫ এপ্রিল ১৯৭১ সনে স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন দিয়ে রক্ত দিয়ে রেখে গেছে স্বাধীনতার ইতিহাসে গ্রামীন জনপদের নতুন অবদান। ঐ দিন সম্মুখ যুদ্ধে ৮ মাসের শিশু, মসজিদের ইমাম, ৯০ বছরের বৃদ্ধা এবং ১০ জন মহিলা, ৬ াট শিশুসহ ৪৭ জন শহীদ ও ২৪ জন আহত হন। মুক্তিযুদ্ধে চরবাড়িয়ার জনগণের প্রচুর রক্ত, ধন-জন-জীবন কেঁড়ে নিয়েছে। এখনো অনেক বীরঙ্গণা করুন কাহিনীর স্বাক্ষী লুকিয়ে আছে এ চরবাড়িয়ায়।

      চরবাড়িয়া শহীদদের আত্মত্যাগ ক্ষুদ্রাকারে গণ্য করার কোন অবকাশ নেই। সুবিশাল মহিমায় নির্মল ইতিহাসের পাতায় তা স্থান করে নিয়েছে অবলীলায়। সে সময়ের সহজ সরল জীবন যাপনের এই মানুষগুলো হয়তো আর কোন দিনই জানতে পারবে না আগামী প্রজন্ম তাঁদের জন্য কি গৌরব বরণডালা সাজিয়ে নিয়ে স্বশ্রদ্ধায় দাঁড়িয়ে আছে। 

      বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ও প্রলয়ংকরী এ হত্যাযজ্ঞের প্রত্যক্ষদশী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মন্নান বীভ]স ট্রাজেডি নিয়ে “একাত্তরের রক্তাত্ব চরবাড়িয়া:” নামক গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। ২০০১ সালে বরিশাল জেলা পরিষদের সহায়তা তালতলী বাজারে শহীদের “নাম ফলক” স্থাপন করা হয়।        

      মুক্তমনের চর্চা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এ এলাকার শিশু-কিশোর, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা তাদের নির্মল চরিত্র, সুন্দর মন আর সুস্থ্য দেহের অধিকারীরূপে গড়ে তোলার লক্ষে বেসরকারীভাবে চরবাড়িয়ার ব্যক্তিবর্গের উদ্যেগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে ‘শহীদ আবদুর রহমান থান স্মৃতি পাঠাড়ার”।

      চরবাড়িয়ার মুক্তিযোদ্ধারা ঝুনাহারে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ৩টি গানবোর্ড ও ২টি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে গণহত্যা চালার তার স্মৃতি রক্ষার্থে দীর্ঘ ৫৩ বছর পর ‘একাত্তরের রক্তাত্ব চরবাড়িয়া’ গ্রন্থের লেখক ও শহীদ পরিবারের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মন্নান এর প্রেচেষ্টায় বরিশাল জেলা পরিষদের সহায়তায় পাঠাগারের সম্মুখে ‘একাত্তরের রক্তাত্ব চরবাড়িয়া’ “স্মুতি ফলক” প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে এ বীর শহীদের স্মৃতিকে চিরজ্ঞীব করার জন্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় করে রাখতে পাঠাগার ও স্মুতি ফলখটি অবদান রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সাম্প্রতিক পোস্ট

পুরস্কার ও সম্মাননা